শনিবার, ২৩ জুন, ২০১২

পলাশী দিবসে ভাগ্যগণনা

পলাশী দিবসে ভাগ্যগণনা

রচনায়ঃ আপত্তিকর বন্দোপাধ্যায়

প্রযোজনায়ঃ মুন্সি তুকাজ্জিবান 

পরিচালনায়ঃ সৈয়দ আলম এ বরজখ

--------------------------------------------------------------


[ইতিহাসের কষ্টিপাথর ও ডিজিটাল হিসাব নিকাশ দ্বারা ভাগ্য গণনা করা হয়...!
যোগাযোগঃ
ফাঁসির মঞ্চ, ৩০২ আদালত পাড়া,
গ্যারাকল নগর (ঢাকার আধুনিক নাম),
বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০১৭৫৭-৪৭ ৫২ ৭১]

[গণকের ঘরে ধ্যানমগ্ন গণক। বিজ্ঞাপন দেখে জনৈক ব্যক্তির আগমন এবং তারপর]

গণকঃ     কে রে
জনৈক ব্যক্তিঃ     আমি
গণকঃ     কি চাস
জনৈক ব্যক্তিঃ     একটা প্রশ্ন ছিল গুরু।
গণকঃ     বল।
জনৈক ব্যক্তিঃ     আজ তো ঐতিহাসিক পলাশী দিবস
গণকঃ     তোর কি হয়েছে? (একটু ভেবে) আচ্ছা বল ঐতিহাসিক কেন?
জনৈক ব্যক্তিঃ     এই দিনে ‘সিরাজ উদ দৌলা’র পরাজয়ের মাধ্যমে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ...।
গণকঃ     ওটা আমার ছোট মেয়েও জানে।  
জনৈক ব্যক্তিঃ     তাহলে সবাই এমন চুপচাপ কেন?
গণকঃ     ক্লাইভের মারের ভয়ে বুঝি। এসব প্রশ্ন ঐতিহাসিকের কাছে বলবি, আমি গণক, আমার কাছে ভাগ্য সম্পর্কে কি জানতে চাস সেটা বল।
জনৈক ব্যক্তিঃ     কিন্তু মনের খুঁতখুতি তো যায় না।
গণকঃ     দাসের মনে খুঁতখুতি থাকা ভালো না।
জনৈক ব্যক্তিঃ     হু, আমরা দাস! বাঙলা কে দিল্লীর সুলতানরা বলতেন ‘বুলগাকপুর’ বা বিদ্রোহী নগরী। আমরা বার বার বিদ্রোহ করেছি, বার বার স্বাধীনও হয়েছি।
গণকঃ     তার মানে বারবার পরাধীনও হয়েছো। তাহা না হলে বারবার বিদ্রোহী করতে যাবে কেন ছোকরা। আজ আমরা বিশিষ্ট ব্যাক্তিবর্গদের জন্মদিন বা মৃত্যুবার্ষিকী ধুম-ধাম করে পালন করি। কিন্তু এই দিনটি আসলেই চারণ কবির মতো উদাসিন হয়ে পরি। এসবের মূল কারণ হচ্ছে চুলকানি।
জনৈক ব্যক্তিঃ     চুলকানি হতে যাবে কেন?
গণকঃ     যাবেরে যাবে! সিরাজের আমলে গরু ও পাঠার মাংস সস্তা ছিল। এত পরিমাণ খেয়েছে যে চুলকানিতে পূর্বপুরুষেরা গায়ে কাপড় রাখতে পারত না। তাই জলদি করে সিরাজকে পিঠিয়ে বিদায় করেছে। সেই চুলকানি বংশগতভাবে আমরাও পেয়েছি।
জনৈক ব্যক্তিঃ     এতে কি আমাদের ভালো হয়েছে।
গণকঃ     ভালো হয়েছে কি খারাপ হয়েছে সেটা আমরা ভালো করে
    দেখতে পারছি।
জনৈক ব্যক্তিঃ     আপনি খুব ফান করছেন। দয়া করে সিরিয়াসলি বলুন।
    এই প্রশ্নটির সাথে আমাদের ভবিষ্যত জড়িয়ে আছে। 
গণকঃ     সিরিয়াসলি বা ফান হোক আমার জ্যোতিষ শাস্ত্র বলেÑ শোক্কে শক্তিতে
    পরিণত করার ক্ষমতা যদি বাঙ্গালির ভেতর বর্তমান থাকত তাহলে
আমাদের প্রেক্ষাপট অন্যরকম হতে পারত। আমাদের সামনে নিরুপায় কিছু সিরাজ, কিছু মোহন লাল, কিছু মীর মর্দানরা প্যাদানি খাচ্ছে
    অথচ আমাদের অবস্থা- ‘তুমি মা কল্পতরু
                    আমরা সব পোষা গরু
                  আমরা, ভুষি খেয়ে তুষ্ট থাকি
                    ঘুষি খেলে বাঁচবো না।’ 

তাইতো রুটিন করে অফিসে যাই। মাস শেষে বেতন বুঝে নেই। এখানেই জীবনের পূর্ণতা। ব্যাতিক্রম হলেই শান্তির মিছিলে শ্লোগান হাকতেই থাকি- “অন্ন চাই, বস্ত্র চাই
                     বাঁচার মত বাঁচতে চাই।”
কিন্তু এই আবেদন যাদের কানে পৌছাতো, তার লাশ ক্লাইভের সৈন্যরা উল্টেগাধার পিঠে চরিয়ে আমাদের সামনেই হেটে নিয়ে গেল। তবুও অফিসে যাই, মাস শেষে বেতন বুঝে নেই। আর ব্যাতিক্রম হলেই আবারও- ......। এসব দেখে ঐ ছোকরাটা, কি যেন নাম, ও হ্যাঁ নজরুল, ব্যাটা বলেছিল-    “স্কুলে যাও চাকরী কর,
 আশাতো নাই এর চেয়ে বড়।”   রাম.রাম..রাম...
জনৈক ব্যক্তিঃ     বিষয় পরিস্কার করে বলুন।
গণকঃ     কানে কি কম শুনিস? আচ্ছা বল তো মানুষ কখন যুদ্ধ করে।
জনৈক ব্যক্তিঃ     ক্ষমতা বেশি হলে।
গণকঃ     কচু হলে। আরে আহাম্মক, মানুষ সংগ্রাম দুই অবস্থায় করে,
এক. গায়ে তেল হলে, দুই.  দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে। প্রথমোক্ত বৈশিষ্টটি যাদের ভেতর থাকে তাদেরকে বলি জাত যোদ্ধা আর যারা দ্বিতীয় অবস্থার সম্মুখীন তারা মুক্তিযোদ্ধা। বখতিয়ার খলজির সময়ে আমরা ছিলাম প্রথম বৈশিষ্টের অধীকারি, বঙ্গবন্ধুর সময় নেমে এসেছি দ্বিতীয় অবস্থানে।

জনৈক ব্যক্তিঃ
    তাহলে এখন আমাদের বৈশিষ্ট কি...??????
গণকঃ     একটা না একটা বৈশিষ্ট্য তো অবশ্যই আছে। সেটা আমি না রবীন্দ্রনাথই আগে ভাগে নির্ধারন করে গেছেনÑ “অন্নপায়ী বঙ্গভাষী
                    স্তন্যপায়ী জীব”
জনৈক ব্যক্তিঃ    রবীন্দ্রনাথ কবি হয়ে যা নির্ধারণ করে গেছে আপনি গণক হয়ে এই প্রকারে জীবের ভবিষ্য নির্ধারণ করুন তো।
গণকঃ     ইতিহাসের কষ্টিপাথর ও ডিজিটাল হিসাব নিকাশ অনুযায়ী নরকে
জনৈক ব্যক্তিঃ     তা মানে জাহান্নামে?
গণকঃ     হ্যাঁ, তাও হতে পারে। অথবা বলতে পারিস [কানেকানে] প্রতিবেশীর পাকস্থলীতে।
জনৈক ব্যক্তিঃ     তাহলে আমাদের কি হবে। কিংবা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মে।
গণকঃ    কেন নরকে গেল কি হয়।
জনৈক ব্যক্তিঃ     আমরা যে বাঁচতে চাই।
গণকঃ     কেন, নরকে তো কেউ মরে না, বেঁচে থেকে শুধু সাপের কামড় খায়।
জনৈক ব্যক্তিঃ     দয়া করে উপায়টা বলুন।
গণকঃ     দাড়াও বলছি। [নথিপত্র ঘেটে, টাঁকচুলকিয়ে] শাস্ত্র বলছে- কান্ডারী তব
    সম্মুখে ঐ পলাশীর প্রান্তর বাঙ্গালীর খুনে লাল হল যেথা ক্লাইভের খঞ্জর
ঐ গঙ্গায় ডুবিয়াছে হায় ভারতের দিবাকর উদিবে সে রবী আমাদেরই খুনে রাঙ্গিয়া পুনর্বার
    টিকা: ডিজিটাল সূত্র অনুযায়ী “ভারত” এর স্থানে “বাংলাদেশ” হবে।
জনৈক ব্যক্তিঃ    এছাড়া মনে হয় আর উপায় নেই। তাহলে যাই।
গণকঃ     ৫০১ টাকা দিয়ে যেখানে খুশি সেখানে যা...।

সোমবার, ১৮ জুন, ২০১২

আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে.....!!!

আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে
কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে.....!!!

কথাগুলো কবি কলেছিলেন অনেক আগে। এখন তা হারে হারে টের পাচ্ছি আমি আমরা সবাই। কবে যুব সমাজ আসলেই দেশকে ভালবেসে দেশের জন্য কাজ করবে...?? আমরা কেউ কি জানি..??

আজ আমরা বড় বড় কথা বলি, কিন্তু কাজ কতটুকু করি..??? অনিয়ম বেড়েই চলছে। কেউ থামানোর নেই, কে থামাবে..?? বলারই তো কেউ নেই। আমরা সত্য কথাগুলো বলতে ভয় পাই। আমার ফেসবুক প্রফাইলে ‍সত্য পোস্ট করতে ভয় পাই।

শ্রমিকদের অধিকার নেই। ছাত্রদের সুস্থ্য সুন্দর লেখাপরার পরিবেশ নেই। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নেই। চারিদিকে হত্যা, ছিনতাই, মারামারি, ধর্ষন। আমরা আসলে কি খুজি..???

জানি কজনই বা পরবে আমার এই লেখা, তবুও লিখে যাই...!! বলে যাই, যাব...!!!

রবিবার, ৩ জুন, ২০১২

আমার বরিশাল

গত ৩১-০৫-২০১২ তারিখ আমি ঢাকা থেকে বরিশালের উদ্দেশ্যে রওনা দেই। সুরভী-৭ লঞ্চে, সাথে আমার জীবন সাথী। আমাদের প্রথম লঞ্চৃ ভ্রমন। আমরা খুবই খুশি আর হাস্যজ্জল চেহারা নিঢে লঞ্চে হাটা হাটি করছি। লঞ্চের অন্যান্য যাত্রীরা আমাদের দিকে অন্য ভাবে তাকাচ্ছে। খুব মজা পা্িচছ। প্রায় ৫ মাস পর বরিশাল যাচ্ছি। আমার প্রানের বরিশাল। ভালবাসি অনেক। বরিশালের আলো বাতাশ, মাটি, নদী নালঅ খাল বীল, সব কিছুই আমার অনেক আপন। অনেক রাত জেগে রাতের নদী উপভোগ করলাম। গল্প আর আড্ডায় মেতে ছিলাম।

সকাল ৬.৩০ মি. আমরা লঞ্চ থেকে নেমে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। পথে যেতে যেতে টের পেলাম আমার বরিশাল অনেক বদলে যাচ্ছে। রাস্তা-ঘাট সব উন্নত হচ্ছে। আমরা প্রতিনিয়ত আমাদের চলারপথ সুন্দর আর আধুনিক করার জন্য চেষ্টা করি। অনেক প্রযুক্তির ব্যবহার করি। কিন্তু এই প্রযুক্তি গুলোই আমাদের জীবন বেশি কঠিন করে তোলে। তা কি আমরা টের পাই। পাই না। বিষয়গুলো দেখে আমার ভাল লাগল আবার অন্য দিক থেকে আমার খারাপ লাগা শুরুকরল। আমি আমার বরিশালের বাতাস দুষিত দেখতে চাই না। সব মানুষগুলো কে যান্ত্রিক দেখতে চাই না।

কিন্তু আমার আর্তনাদ কে শোনে। ...?????

ঘাটে নেমে আমি পাগল প্রায়... আমি বরিশালে আছি ভেবেই।

যাই হোক,
এখন অনেক শান্তিপুর্ন একটা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছি। বাবা-মা, বোন, ভাগনে, আর ্আমার মেঝ বোন রিমির নর্সারীর সব গাছ গুলো নিয়ে। আবার ফিরে যেতে হবে যান্ত্রিক শহর ঢাকায় ৫ জুন।

ভাবতেই ভাল লাগছেনা।
তার পরও যেতে হবে। বলতে বাধা নেই যে, ঢাকা কে আমিও ভালবাসি।